বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
জাতীয়

আর যেন, নির্বাচন ডাকাতি না ঘটে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে : ~প্রধান উপদেষ্টা।

নিজস্ব প্রতিবেদক। ১২ জানু ২০২৬ ১১:৪৬ পি.এম

আর যেন, নির্বাচন ডাকাতি না ঘটে,

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘আমরা ভোট ডাকাতির কথা শুনেছিলাম, কিছু কিছু জানতামও। কিন্তু এত নির্লজ্জভাবে পুরো প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে, সিস্টেমকে দুমড়ে-মুচড়ে ফেলে নিজেদের মনের মতো একটা কাগজে রায় লিখে দেওয়া হয়েছে— এগুলো জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার। এসবের পুরো রেকর্ড থাকা প্রয়োজন। নির্বাচন ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।’

সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪) তদন্ত কমিশন। প্রতিবেদন গ্রহণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তদন্তের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন কমিশনের সদস্যরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশন প্রধান সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন, সদস্য শামীম আল মামুন, কাজী মাহফুজুল হক সুপণ, ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হোসেন, ড. মো. আব্দুল আলীম। উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, তথ্য উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

তদন্ত প্রতিবেদনে কমিশন জানায়, ২০১৪ সালে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং অবিশষ্ট ১৪৭টিতে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা’র নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ সাজানো ও সুপরিকল্পিত। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে এ বন্দোবস্ত করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের নির্বাচন সারা বিশ্বে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন হিসেবে সমালোচিত হওয়ায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ করার মিশন গ্রহণ করে। বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল তাদের এ সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বুঝতে না পেরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।

প্রতিবেদন গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা ভোট ডাকাতির কথা শুনেছিলাম, কিছু কিছু জানতাম। কিন্তু এত নির্লজ্জভাবে পুরো প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে সিস্টেমকে দুমড়ে মুচড়ে ফেলে নিজেদের মনের মতো একটা কাগজে রায় লিখে দিয়েছে... এগুলো জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার। পুরো রেকর্ড থাকা দরকার।’

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘দেশের টাকা খরচ করে, মানুষের টাকায় নির্বাচন আয়োজন করে পুরো জাতিকেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ দেশের মানুষ সে সময় অসহায়ের মতো তাকিয়ে ছিল, কিছুই করতে পারেনি। এ দেশের জনগণ যেন কিছুটা হলেও স্বস্তি পায়, সেজন্য এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের চেহারা জাতির সামনে নিয়ে আসতে হবে। কারা করল, কীভাবে করল— সেটা জনসমক্ষে আসা জরুরি। নির্বাচন ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটতে পারে, আমাদের সেই স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে।’

তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের নির্বাচনে ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে রাতের বেলায় ব্যালট পেপারে সিল মেরে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করে রাখা হয়েছিল। আওয়ামী লীগকে জেতাতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের ‘অসৎ প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ কাজ করেছিল। ফলে কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট প্রদানের হার ১০০ শতাংশও ছাড়িয়ে যায়। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে বিএনপিসহ প্রধান বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ‘ডামি’ প্রার্থী দাঁড় করিয়ে নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ দেখানোর অপকৌশল গ্রহণ করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত তিনটি নির্বাচনের এই অভিনব জালিয়াতির পরিকল্পনা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়। এটি বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি কিছু কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছিল, যা ‘নির্বাচন সেল’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

২০১৪-২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে নির্বাচন ব্যবস্থাকে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে মূলত প্রশাসনের হাতে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সময়ে কমিশনের পরিবর্তে প্রশাসনই হয়ে ওঠে নির্বাচন পরিচালনার মূল শক্তি।

আরও খবর

news image

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক থমকে আছে, দুই দেশের নিজস্ব স্বার্থের ধারণায় তফাত থাকায়। সাংবাদিকদের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

news image

রাত ৯ টা ৩৫ মিনিটের সময়, টেকনাফে ভূমিকম্প অনুভব হয়।

news image

টাকা দেওয়ার বিষয়ে, দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করেছে: আইএমএফ।

news image

মনুষ্যবিহীন আকাশযান’" ~ দেশে তৈরি হবে, চীনা কোম্পানির সঙ্গে বিমানবাহিনীর চুক্তি সই।

news image

ভোটকে ঘিরে, ১ দিন মাইক্রো-ট্রাক ও ৩ দিন চলবে না মোটরসাইকেল।

news image

৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে, চলতি অর্থবছরে রিজার্ভ।

news image

নতুন বেতনকাঠামো, সর্বনিম্ন বেতন ১৮,০০০ টাকা:জানুয়ারিতেই কার্যকর হচ্ছে।

news image

~রাতভর ইসি অবরুদ্ধ থাকবে,দাবি আদায় না হলে : ছাত্রদল সভাপতি

news image

ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ সীমান্ত লঙ্ঘন করতে পারবে না: শিল্প উপদেষ্টা

news image

কারও সাধ্য নাই, নির্বাচনকে ডিস্টার্ব করার: শফিকুল আলম।

news image

সৌদি আরব জানতে চায়,  ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়া নিয়ে।

news image

দেশ ও জাতির সেবায় সর্বদা নিয়োজিত, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী:~ সেনাপ্রধান।

news image

প্রবাসী আয়:~ বছরের প্রথম ১২ দিনেই এলো ১৪৬ কোটি ডলার।

news image

আর যেন, নির্বাচন ডাকাতি না ঘটে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে : ~প্রধান উপদেষ্টা।

news image

সাংবাদিকতার ,স্বাধীন পরিবেশ চাইলেন সম্পাদকেরা।

news image

🌎 সতর্কবার্তা~বিশ্বব্যাংকের নামে ভুয়া ফেসবুক খুলে প্রতারণার বিষয়ে সতর্কবার্তা।

news image

এলপিজি সিলিন্ডারের গ্যাস, বিক্রি বন্ধের হুঁশিয়ারি ।

news image

ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে, অধিদপ্তরের নতুন বার্ত

news image

ডিবি জানান, অভিযোগ পত্রে, হাদি হত্যায়, আসামিদের ভূমিকা।

news image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ২৮ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল।;~ তোফাজ্জল হত্যায়‌।

news image

খালেদা জিয়া-উত্তর যুগে বিএনপি, তারেক রহমানের সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ